সত্যের সন্ধানে
বিকেলের সূর্যটা গাছের ডালে আটকে থাকতে থাকতে একসময় অদৃশ্য হয়ে গেছে। সন্ধ্যা নামি নামি করেও যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে কিসের অপেক্ষায়। ননীদি হ্যারিকেন মুছছে। ননীদি বাড়ির অনেক কাজের লোকের একজন। প্রায়ই আমাদের বাড়িতেই থেকে যায়। থাকলে ঘরে ঘরে হ্যারিকেন ওই পৌঁছে দেয়। - ননীদি বাতি লাগাতে আর কতদূর। - এই তো বউদি সন্ধ্যা প্রদীপ দেখালেই বাতি জ্বলবে। উচ্চ বিত্ত হিন্দু বাড়ির ঝামেলার শেষ নেই। বাড়িতে তখন গোটা কুড়ি ঘর। সব ঘরের সামনে ধুপ আর সন্ধ্যা প্রদীপ দেখানো শেষ না হলে বাতি জ্বলবে না। এটা ধর্মীয় আচার নাকি কুসংস্কার নাকি ট্র্যাডিশন কে জানে। ছোটবেলায় মনে হত ধর্মীয় আঁচার, পরে কুসংস্কার। কিন্তু সকালে যখন বিছানায় শুয়ে চায়ের অপেক্ষা করতাম মা বলতেন - চা হয়ে গেছে, উঠে হাতমুখ ধুয়ে নে। চা কি বারান্দায় দেব নাকি বেড টি খাবি? সকালে বা সন্ধ্যায় চা না খেলে জীবনটাই বৃথা হয়ে যেত, কিন্তু এটাকে তখন কুসংস্কার বলে মনে হয়নি, বরং ছিল ট্র্যাডিশন। কেন? অনেক কিছুই আমরা এভাবে ভাবতে অভ্যস্ত । সময়ের সাথে সাথে অনেক কুসংস্কারের জন্য মন খারাপ করে। এখন দেশে গেলে দিদি বা বউদি যখন ঘরে বাতি দেখিয়ে বা তুলসী ...